কিশোর গ্রুপের বেপরোয়া গতি: কেড়ে নিল কাশিনাথপুর গ্রামের সুশান্তের প্রাণ, এ দায় কার?
মেহেদী হাসান, শৈলকুপা উপজেলা প্রতিনিধি
কাশিনাথপুর গ্রামের এক অতি সাধারণ এবং নিরীহ মানুষ সুশান্ত মন্ডল। পেশায় বাজারের একজন ছোট জুতা ব্যবসায়ী। যাকে সবাই তার নম্র ব্যবহারের জন্য ভালোবাসতো। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা আর কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া মনোভাব কেড়ে নিল তার প্রাণ।
দিনটি ছিল ঈদের রাত। কাজ শেষে নিজের বাইসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন সুশান্ত। বন্দে খালি ব্রিজের আগে নজরুল চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে পৌঁছাতেই ঘটে সেই বিভীষিকা। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কিশোর গ্যাংয়ের দ্রুতগতির মোটরসাইকেল সজোরে ধাক্কা দেয় তাকে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পেছনের আরও দুটি মোটরসাইকেল তার শরীরের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়।
দ্রুত তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে নেওয়া হয়, কিন্তু অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেলে। সিটি স্ক্যানে দেখা যায় মাথায় প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ। অপারেশনও করা হলো, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—৮ দিনের মাথায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন সুশান্ত।
সুশান্তের মৃত্যুতে এখন স্তব্ধ পুরো গ্রাম। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই যে দুটি ফুটফুটে শিশু এতিম হয়ে গেল, তাদের দায়িত্ব কে নেবে? এক নিমিষেই একটি সাজানো সংসার ছারখার করে দিল কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের তথাকথিত গতির নেশা।
এলাকাবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন—এই কিশোর গ্যাং বা বেপরোয়া বাইক চালকদের কি নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই? প্রশাসনের কাছে গ্রামবাসীর জোরালো দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। আর কোনো সুশান্তকে যেন এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়।