শৈলকূপা হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জনরোষের মুখে পিছু হটলো চাঁদাবাজরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, শৈলকূপা:
ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হাতে সাধারণ রোগীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতাল এরিয়াতে নির্ধারিত কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে অন্য কোনো যান রোগী পরিবহন করতে আসলে চালককে গুণতে হচ্ছে ১০০০ টাকা চাঁদা। চাঁদা না দিলে চালক ও রোগীর স্বজনদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
আজ দুপুরে হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য বাইরে থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসলে সিন্ডিকেট সদস্যরা ১০০০ টাকা চাঁদা দাবি করে।টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় চালকের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এতে মুমূর্ষু রোগীর যাত্রা প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বিত হয়, যা রোগীর জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।বিষয়টি দেখে স্থানীয় জনতা ও রোগীর স্বজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন।
ঘটনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন বিএনপি নেতা রাকিবুল হাসান খান দিপু এবং নুর আমিন বিশ্বাস। তাদের হস্তক্ষেপে উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নেতৃবৃন্দ ঘোষণা করেন যে,হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট বা চাঁদাবাজি চলবে না।রোগীরা তাদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার পূর্ণ অধিকার রাখেন।
হাসপাতালে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটির চালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। সিন্ডিকেটের সাথে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাধারণ রোগীদের প্রাণের দাবি—হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে চিরতরে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করা হোক, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে ও কম খরচে চিকিৎসা সেবা নিতে পারে।