
টেকসই ড্রেনেজ ও সড়ক বাতির অভাব: শৈলকুপা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ
মেহেদী হাসান, শৈলকুপা উপজেলা প্রতিনিধি :
প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কোটপাড়া এলাকার বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই ওয়ার্ডের সোহাগ ভিলার পার্শ্ববর্তী প্রধান চলাচলের রাস্তায় পানি জমে যায়। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, সড়ক বাতি না থাকা এবং সাপ্লাই পানি সরবরাহের অনুপস্থিতিতে ওই এলাকার জনজীবন এখন বিপর্যস্ত।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায়। বৃষ্টির পর পানি নামার কোনো পথ না থাকায় দিনের পর দিন নোংরা পানি জমে থাকে। এতে করে ওই পানি পচে এলাকায় চরম দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পচা পানির কারণে এলাকায় মশার উপদ্রব জ্যামিতিক হারে বেড়েছে, ফলে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ ছড়ানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী এবং স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা। জলাবদ্ধতার কারণে নোংরা পানি মাড়িয়েই শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজিয়ে ফেলছে এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, এই চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যেও প্রতি বছর নিয়মিতভাবে পৌর কর (ট্যাক্স), বিদ্যুৎ বিল এবং পানির বিল আদায় করছে কর্তৃপক্ষ। অথচ বিনিময়ে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা মিলছে না। রাতে রাস্তায় কোনো ল্যাম্পপোস্ট বা আলোর ব্যবস্থা না থাকায় পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, যা চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এই এলাকায় এখনো পৌঁছায়নি পৌরসভার সাপ্লাই পানি। সব মিলিয়ে কোটপাড়া সোহাগ ভিলা সংলগ্ন এলাকায় এখন এক ‘হ য ব র ল’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সোহাগ ভিলার পার্শ্ববর্তী এলাকার একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিয়মিত পৌর কর দিয়েও কেন এই যন্ত্রণা ভোগ করব? প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় এই আদিম দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের দাবি অত্যন্ত পরিষ্কার—অবিলম্বে এই দুর্ভোগের অবসান চাই।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী এই নারকীয় পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তা সংস্কার, টেকসই ড্রেনেজ নির্মাণ ও সড়ক বাতি স্থাপনের জন্য পৌর প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
মেহেদী হাসান,শৈলকুপা উপজেলা প্রতিনিধি 








