
অ্যাম্বুলেন্স দিতে অস্বীকৃতি: চালকের অবহেলার কারণে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ,আর এম ওর অভিযোগে গ্রেফতার চালক।
মেহেদী হাসান, শৈলকূপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকূপায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালকের অবহেলায় সময়মতো উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী স্থানান্তর করতে না পারায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় উত্তেজিত রোগীর স্বজনরা চালককে অবরুদ্ধ করে রাখলে পরবর্তীতে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল দশ টার দিকে বুকে ব্যথা এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে শৈলকূপা হাসপাতালে ভর্তি হন বারইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফর কুসুম (৬৫)। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালের কার্ডিয়াক কনসালটেন্ট ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থের অধীনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে রোগীর পালস এবং হার্ট রেট অত্যন্ত কম থাকায় চিকিৎসকরা তাকে সিপিআর (CPR) দিয়ে সচল রাখার চেষ্টা করেন। রোগীর অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা ১২:৩০ টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রেফার্ড (স্থানান্তর) করেন।
রেফার করার পরপরই রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক বকুল মিয়াকে অ্যাম্বুলেন্স বের করার অনুরোধ জানান। কিন্তু চালক বকুল মিয়া গাড়িতে তেল নেই এমন অজুহাত দেখিয়ে রোগীকে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু জাফর কুসুমকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা অ্যাম্বুলেন্স চালক বকুল মিয়াকে হাসপাতালের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে শৈলকূপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডাক্তার আব্দুল আল মামুন বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অ্যাম্বুলেন্স চালক বকুল মিয়াকে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রাশেদ আল মামুন জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এই অবহেলার পেছনে মূল কারণ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়কেও অবগত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শৈলকূপা থানা পুলিশ জানায়, হাসপাতালের অভিযোগের ভিত্তিতে চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মেহেদী হাসান,শৈলকুপা উপজেলা প্রতিনিধি 






