ছোট চালান, বড় প্রশ্ন! শৈলকুপায় মাদকের শিকড় কোথায়?

ছোট চালান, বড় প্রশ্ন! শৈলকুপায় মাদকের শিকড় কোথায়?

মেহেদী হাসান, শৈলকুপা প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের শৈলকুপায়, সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান, মোবাইল কোর্ট, ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটক এবং তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়ার ঘটনা নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। কোথাও কয়েক পিস ইয়াবা, কোথাও অল্প পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার-আবার কোথাও তাৎক্ষণিক জরিমানা কিংবা কারাদণ্ড। প্রশাসনের এমন অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে নতুন কিছু প্রশ্নও সামনে আসছে।

এরই মধ্যে সম্প্রতি “চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে” স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে ব্যাপক গণসংযোগ, র‌্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এমপি শৈলকুপায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে তার এই অবস্থান স্থানীয় জনমহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের একটি অংশের প্রশ্ন—ঘোষণা ও অভিযান চললেও বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা পরিবর্তন হচ্ছে?

সচেতন নাগরিকদের অনেকের প্রশ্ন-মাদকবিরোধী অভিযানে খুচরা পর্যায়ের ব্যক্তিরা ধরা পড়লেও এর পেছনের সরবরাহ চক্র কতটা শনাক্ত হচ্ছে? মাদক কোথা থেকে আসছে, কারা ছড়িয়ে দিচ্ছে, কীভাবে স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে—এসব বিষয়ও আলোচনায় আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দৃশ্যমান অভিযানের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহ নেটওয়ার্ক ও অর্থনৈতিক সংযোগ খুঁজে বের করাও জরুরি। তাদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি মাদকের বড় উৎস ও বিস্তৃত চক্রের দিকেও সমান গুরুত্ব দেবে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু নামমাত্র গ্রেফতার নয়—মাদকের প্রবাহ কীভাবে কমানো যায়, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা অবস্থান জানানো হলে বাস্তব চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন তারা।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু গ্রেফতার বা তাৎক্ষণিক সাজা দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট নয়। কার্যকরভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, পুনরাবৃত্ত অপরাধ পর্যবেক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা এবং তরুণদের ইতিবাচক সম্পৃক্ততা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা—শুধু উদ্ধার ও গ্রেফতার নয়, মাদকের পুরো চক্র শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আরও বিস্তৃত উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *